Global Header Bottom
এমটিও: ব্যাংকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চাকরি

এমটিও: ব্যাংকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চাকরি

এমটিও: ব্যাংকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চাকরি

এবি ব্যাংক ব্যবসা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত যতবার এমটিও পদে লোক নিয়োগ করেছে প্রতিবারই আবেদনকারীদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ মেধাবীদের বাছাই করে নিয়েছে। গত পর্বে উল্লেখ করেছিলাম মৌখিক পরীক্ষার সময় আমাদের ব্যাংকের টপ ম্যানেজমেন্ট মৌখিক পরীক্ষাগুলো গ্রহণ করেন। এর কারণ হলো এদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের শীর্ষ ব্যাংকার তৈরি হবে। এই বাছাই প্রক্রিয়ায় ভুল হলে ব্যাংকের নানা ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে এবি ব্যাংক সব সময় এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ব্যাংকের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এ ধারা চলমান রয়েছে। আগে আমাদের ব্যাংক সম্পর্কে বাজারে একটি কথা প্রচলিত ছিল, এবি ব্যাংক ব্যাংকার তৈরি করে। এ কারণে অনেক ব্যাংকের এমডি, এএমডি, ডিএমডি, এবং অন্যান্য সিনিয়র পদে আমাদের ব্যাংকের সাবেক সহকর্মীদের দেখা যায়। এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। ২০১৭ সালের একটি ডেটা অনুযায়ী ওই সময় দেশের ২২টি ব্যাংকের এমডি পদে যাঁরা কর্মরত ছিলেন তাঁদের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল এবি ব্যাংকের এমটিও পদ থেকে।

৫০ জনকে এমটিও পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য চূড়ান্তভাবে বাছাই করার পর তাঁদের জয়েনিং প্রসেস শুরু হলো। সাধারণত দেখা যায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে যখন নতুন কোনো কর্মী যোগদান করতে আসেন তখন এইচআর ডিপার্টমেন্ট থেকে তাঁকে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এভাবেই তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি একটু দীর্ঘ। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে যোগদান করতে গেলে টপ ম্যানেজমেন্ট এবং অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের কর্মীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান জয়েনিংয়ের দিনে ছোটখাটো একটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। সেটা সম্ভব না হলে অন্তত প্রতিষ্ঠান, ডিপার্টমেন্ট, ক্ষেত্র বিশেষে অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে কর্মীকে জানানোর জন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের আয়োজন ভিন্ন রকম। এটাকে বলা যেতে পারে একটা গ্র্যান্ড আয়োজন।

জয়েনিংয়ের প্রাথমিক কাজ শেষ করার পর তাঁদের জন্য চমৎকার একটি আয়োজন ছিল। সেখানে দেশের প্রথিতযশা ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন। এটা করা হয়েছিল তাঁদেরকে উৎসাহিত করার জন্য, তাঁদের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য। এবারের আয়োজনে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ডক্টর মোস্তাফিজুর রহমান সাহেবকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তিনি সিপিডির সাবেক এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং বর্তমানে একজন ফেলো। তিনি পুরো অনুষ্ঠানে আমাদের সাথে ছিলেন। তিনি নবীনদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন যেখানে চমৎকার একটি মেসেজ ছিল। তিনি বলেছেন, ব্যাংক তোমাদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি স্ট্র্যাকচার তৈরি করে দেবে আর তোমরা শুধু ওই পথ ধরে এগিয়ে যাবে, এটা ঠিক নয়। তোমাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে, এগিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা আছে।

জয়েনিং সেশনে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে যুক্ত হওয়া, ডিনারে অংশ নেওয়া, ফটো সেশন করা, এই সবই জীবনের জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনা। অনেক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কোনো আয়োজন থাকে না। আমরা এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। আমরা তাঁদেরকে সাদরে গ্রহণ করি। উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাই। প্রথম দিনই তাঁদের মনে একটি ভালো অনুভূতি জাগানোর চেষ্টা করি। তাঁরা পরিবারের সাথে, বন্ধুদের সাথে এই অনুভূতি শেয়ার করেন।

এমটিও পদে জয়েন করার পরদিন থেকে দশদিনের একটি ক্লাসরুম ট্রেনিং প্রোগ্রাম শুরু হয়। এই কোর্সটিকে আমরা বলি ফাউন্ডেশন কোর্স। এই দশ দিনে ব্যাংকের টপ টু বটম পর্যন্ত যত ধরনের কাজ আছে সেগুলোর সাথে পরিচয় করানো হয়। টপ লেভেল থেকে মিড লেভেল পর্যন্ত ম্যানেজমেন্টের সকলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। প্রথম দিন সকালের সেশনে আমাদের ব্যাংকে এমটিও পদে যোগদান করে বর্তমানে এমডি, ডিএমডি পদে কর্মরত তাঁদের সাথে ওদের পরিচয় করিয়ে দিই। তাঁরা কিভাবে তাঁদের ডেভেলপমেন্ট করেছেন, কিভাবে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছেন, ইত্যাদি বিষয়গুলো শেয়ার করেন। যাঁরা মিড লেভেলে জব করছেন পর্যায়ক্রমে তাঁদের সাথেও এদের পরিচয় করিয়ে দিই।

তাঁরা তাঁদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। ফলে দেখা যায় প্রতিদিন আমাদের এই এমটিও পদের নবীনরা ব্যাংকের বিভিন্ন জনের সাথে পরিচিত হচ্ছেন এবং যাঁর সাথে পরিচিত হচ্ছেন তিনি তাঁর অভিজ্ঞতার ঝঁুড়ি থেকে অনেক কিছু শেয়ার করছেন। তিনি তাঁর ডিপার্টমেন্টের কাজ সম্পর্কে জানাচ্ছেন। এভাবে প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিজ নিজ সেশনে ওই ডিপার্টমেন্টের সামগ্রিক কার্যক্রমের একটি চিত্র তুলে ধরছেন, ডিপার্টমেন্টের পরিধি, কার্যক্রম পরিচালনার বিধি-বিধান সম্পর্কে নবীনদের পূর্ণ ধারণা দিচ্ছেন।

দশ দিনের এই ট্রেনিং প্রোগ্রামটি তাঁদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এই দশদিনে প্রত্যেক এমটিও আমাদের ব্যাংক সম্পর্কে, ব্যাংকের কার্যক্রম, টপ ম্যানেজমেন্ট, এবং তাঁদের প্রত্যেকের ক্যারিয়ার রোডম্যাপ সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা পেয়ে যান। প্রথম দিন প্রথম সেশনে ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর, অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টরদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এদের পথ চলা শুরু হয়। হেড অব এইচআর ডিভিশন ব্যাংকের রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন, নর্মস, ভ্যালুস, নবীনদের কাছ থেকে ব্যাংক কি ধরনের বিহেভিয়্যর প্রত্যাশা করে এই সব কিছু সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন। দশ দিন এভাবে অতিবাহিত হওয়ার পর তাঁদের পরবর্তী ট্রেনিং সেশন শুরু হয়। এটাকে বলা হয় দ্বিতীয় পর্বের ট্রেনিং।

(চলবে)

ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর: এবি ব্যাংক পিএলসি । সাবেক সাধারণ সম্পাদক: বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট । এবং ব্যাংকার্স ক্লাব অব বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য

শেয়ার করুন:

এই ক্যাটাগরির আরও নিবন্ধ

Global Before Footer