Global Header Bottom
মানবসম্পদ বিভাগ প্রতিষ্ঠানের জন্য ভ্যালু সৃষ্টি করে

মানবসম্পদ বিভাগ প্রতিষ্ঠানের জন্য ভ্যালু সৃষ্টি করে

মানবসম্পদ বিভাগ প্রতিষ্ঠানের জন্য ভ্যালু সৃষ্টি করে

বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে একটি সাধারণ সমস্যা হলো এই বিভাগ কিভাবে প্রতিষ্ঠানের জন্য ভ্যালু সৃষ্টি করে তা ম্যানেজমেন্ট বা মালিকপক্ষ হয় উপলব্ধি করতে পারে না, নয়তো বিষয়টি বুঝে না। অধিকাংশ সময় প্রতিষ্ঠানের ফাইন্যান্স, মার্কেটিং, প্রোডাকশন বা সেলস ডিপার্টমেন্টের প্রতিষ্ঠানের জন্য ভ্যালু সৃষ্টি যেভাবে সহজে চোখে পড়ে মানবসম্পদ বিভাগের কাজগুলো সেভাবে চোখে পড়ে না। এই না পড়ার একটি বড় কারণ হলো অন্যান্য প্রতিটি বিভাগের কাজ অ্যাকটিভ ধরনের। অন্যদিকে, মানবসম্পদ বিভাগের কাজ প্যাসিভ ধরনের। মানবসম্পদ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে প্রতিষ্ঠানে এই বিভাগের গুরুত্ব বুঝা বেশ কষ্টকর।

প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ব্যবসা পরিচালনা করে। আর ব্যবসা পরিচালনার জন্য কর্মী নিয়োগ করতে হয়। মনে করুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনলাইন পদ্ধতি চালু করা হলো। অনলাইন পদ্ধতি চালু করেছে মানবসম্পদ বিভাগ। এ পদ্ধতি চালু করার ফলে কাগজের ব্যবহার কমে যাবে। কোনো পোস্টাল খরচ হবে না। আবেদনপত্র বাছাই করতে সময় কম লাগবে। সামগ্রিকভাবে সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হবে। অর্থের সাশ্রয় হলে তা নিট মুনাফা বৃদ্ধি করবে। প্রতিষ্ঠানের আয়ের একমাত্র উৎস বিক্রয়। কিন্তু, বিক্রয় হলেই সেটা নিট মুনাফাকে ইঙ্গিত করে না। কারণ বিক্রয়মূল্য থেকে অনেক খরচ বাদ দিয়ে নিট মুনাফা নির্ণয় করা হয়। আবার প্রতিষ্ঠান কখনো কখনো লোকসান দিয়েও পণ্য বিক্রি করতে পারে। তাই বিক্রয় হলেই সেটা নিট মুনাফাকে বাড়িয়ে দেবে এমনটি মনে করার কোনো নেই। কিন্তু যেকোনো প্রকার সাশ্রয় নিট মুনাফার বাড়িয়ে দেয়। অনলাইন পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হলে প্রতিষ্ঠানের অনেক ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব। কোনো কোনো ব্যয় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করাও সম্ভব। কখনো কখনো প্রতিষ্ঠানের স্ট্রাকচারও পরিবর্তন হতে পারে। মানবসম্পদ বিভাগ একটি “টল স্ট্রাকচার” প্রতিষ্ঠানকে “ফ্লাট স্ট্রাকচার” প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে পারে। ফলে প্রতিষ্ঠানে লেয়ার কমে যাবে যা প্রতিষ্ঠানের কর্মী সংখ্যা কমাতে সহায়তা করবে। পূর্বের বেশি সংখ্যক কর্মীর পরিবর্তে কম সংখ্যক কর্মী দ্বারা প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে মানবসম্পদ বিভাগের ভূমিকা অগ্রগণ্য হলেও তা সহজে অনুমেয় হয় না।

একজন যোগ্যকর্মীই পারে প্রতিষ্ঠানের জন্য সাফল্য বয়ে আনতে। প্রতিষ্ঠানের জন্য যোগ্যকর্মী বাছাই করা মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্ব। নিয়োগকৃত কর্মীদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হতে পারে। আরও আধুনিক যন্ত্রপাতির সাথে পরিচয় ঘটানোর প্রয়োজন হতে পারে। এসব কাজ মানবসম্পদ বিভাগ করে থাকে। এ সকল কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে কর্মীর প্রোডাকটিভিটি বাড়বে। অপারেশন কষ্ট কমে আসবে যা নিট মুনাফাকে বাড়াতে সাহায্য করবে।

চেইন অব কমান্ড না থাকলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। মানবসম্পদ বিভাগ প্রতিষ্ঠানে ডিসিপ্লিন বজায় রাখতে ভূমিকা পালন করে। এছাড়া কর্মীদের মধ্যে টিমবিল্ডিং ধারণা সৃষ্টি করে। সাফল্য লাভের জন্য টিমওয়ার্ক প্রয়োজন। টিমবিল্ডিং এবং টিমওয়ার্ক এ দুটি ক্ষেত্রে মানবসম্পদ বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিষ্ঠানে এ দুটির চর্চা যত বেশি হবে প্রতিষ্ঠান সামনের দিকে তত এগিয়ে যাবে।

একটি প্রতিষ্ঠানে বেশ কয়েকটি বিভাগ থাকতে পারে। প্রতিটি বিভাগের নিজ নিজ সাফল্যও থাকতে পারে। যেমন, ব্র্যান্ড ডিভিশন থেকে প্রতিষ্ঠানের জন্য তৈরি একটি বিজ্ঞাপন মানুষের নিকট বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। হিসাব বিভাগ কিছু অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস করে ম্যানেজমেন্টের বাহবা পেতে পারে। বিক্রয় বিভাগ বিক্রির লক্ষ্য পূরণ করে খোশমেজাজে থাকতে পারে। গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ একটি ভালো পণ্য উদ্ভাবন করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে। মার্কেটিং বিভাগ কার্যকর কোনো কৌশল প্রয়োগ করে চমক দেখাতে পারে। কিন্তু, এই প্রতিটি বিভাগের কাজের সাফল্যের পেছনে মানবসম্পদ বিভাগের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। কারণ, প্রতিটি বিভাগে যোগ্য লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেই তাঁদের পক্ষে সাফল্যের সিঁড়ি পাওয়া সম্ভব হয়েছে। এই সত্যটি অনেক প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট বুঝতে চায় না অথবা বুঝেও না।

প্রশ্ন হলো, কোনো প্রতিষ্ঠান কী মানবসম্পদ বিভাগ ছাড়া চলতে পারে? এর উত্তর হলো, কোনো বড় বা ভালো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। তবে, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত। যেমন, একজন এমবিবিএস ডাক্তার একটি সীমা পর্যন্ত রোগীর চিকিৎসা করতে পারেন। কিন্তু, রোগ যদি জটিল হয় তাহলে একটি পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার প্রয়োজন হবে। এখানেও বিষয়টি তদ্রুপ। এ কারণে প্রতিষ্ঠানে একটি যোগ্য মানবসম্পদ বিভাগ থাকলে তা প্রতিষ্ঠানের জন্য সাফল্য ছাড়া অন্যকিছু বয়ে আনতে পারে না।

লেখার বিষয়বস্তু একান্তই লেখকের নিজস্ব মতামত।

এইচআর অ্যাডভাইজার, আইসিডিডিআরবি প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ হিউম্যান রিসোর্স অর্গানাইজেশনস প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট, এশিয়া প্যাসিফিক ফেডারেশন অব হিউম্যান রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট এইচআর অ্যাডভাইজার, আইসিডিডিআরবি প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ হিউম্যান রিসোর্স অর্গানাইজেশনস প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট, এশিয়া প্যাসিফিক ফেডারেশন অব হিউম্যান রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট

শেয়ার করুন:

এই ক্যাটাগরির আরও নিবন্ধ

Global Before Footer